নামজারি ও অনাপত্তিপত্র নেই

পাওয়ার গ্রিডের অনেক জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে পারেননি নিরীক্ষকরা

রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) অনেক জমির নামজারি ও অনাপত্তিপত্র না থাকায় প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করা যায়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) অনেক জমির নামজারি ও অনাপত্তিপত্র না থাকায় প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করা যায়নি। স্থায়ী সম্পদের ইমপেয়ারমেন্ট টেস্ট বা মান যাচাইয়ের কথা থাকলেও কোম্পানিটি কখনই তা করেনি। কোম্পানিটির সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ মতামত দিয়েছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোং, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ও একনাবিন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস।

নিরীক্ষকরা তাদের মতামতে জানিয়েছেন, গত ৩০ জুন শেষে পাওয়ার গ্রিড ১ হাজার ৪১০ কোটি ২২ লাখ টাকার জমি দেখিয়েছে। চলতি বছর ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় নতুন কেনা জমিও এর অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে কিছু জমি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) থেকে হস্তান্তর হয়েছে। এসব জমির মালিকানা দেখাতে কোম্পানিটি কিছু পুরনো নথি প্রদর্শন করেছে। তবে কোনো নামজারি ও অনাপত্তিপত্র দেয়া হয়নি। এসব জমির মূল্য আবার আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই জমির প্রকৃত মালিক কে তা নিশ্চিত করা যায়নি।

নিরীক্ষকরা আরো জানিয়েছেন, পাওয়ার গ্রিডের মোট ২৭ হাজার ৪৩৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকার স্থায়ী সম্পদ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব সম্পদের মান যাচাই করার কথা থাকলেও কোম্পানিটি তা করেনি। ফলে স্থায়ী সম্পদের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

পাওয়ার গ্রিডের ঋণের হিসাবেও গরমিল রয়েছে। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) থেকে নেয়া ৩৫৯ কোটি ৯২ লাখ টাকার ঋণের সহায়ক নথিপত্র দেখাতে পারেনি কোম্পানিটি। ঋণ পরিশোধ কিংবা বকেয়ার পরিমাণ সম্পর্কেও পুরো তথ্য পাননি নিরীক্ষকরা।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৯৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ২ টাকা ৮১ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৪৫ টাকা ২৩ পয়সায়।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৬৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৩৯ টাকা ২৯ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১০ টাকা ১১ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)।

৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৩২ টাকা ৬১ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে পাওয়ার গ্রিড। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮ টাকা ৮৯ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৭০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনিএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৫৯ টাকা ৪৭ পয়সায়।

২০০৬ সালে পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত পাওয়ার গ্রিডের অনুমোদিত মূলধন ১৫ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৪৬৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৯১ কোটি ৩৮ লাখ ৬ হাজার ৯৯১। এর ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া সরকারের কাছে ২২, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৪ দশমিক ৫৩, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও